Islamic guidance on avoiding zina, showing a Muslim person practicing modesty, self-control, and piety.

যি*না: ধরন, হাদীস ও ইসলামী বিধান অনুযায়ী প্রতিরোধ | Halal Dizworld

যি*না: হারাম সম্পর্কের বিস্তৃত ধারণা ও সতর্কতা

অনেকে ভাবেন, যিনা মানে শুধুই বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক। কিন্তু ইসলাম এই ধারণাটিকে অনেক বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছে। হাদীস ও কুরআনের আলোকে দেখা যায়, যিনা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত, যা মানুষের দৃষ্টি, কথা, স্পর্শ, চলন ও কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।

 

যি*নার ধরন

হাদীস অনুযায়ী যি*না শুধু শারীরিক যৌন সম্পর্কই নয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  1. চোখের যি*না: অবৈধভাবে বেগানা নারী বা পুরুষের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া।
  2. জিহ্বার যি*না: যৌন বা অশ্লীল কথাবার্তা বলা।
  3. হাতের যি*না: বিবাহ বহির্ভূত কাউকে স্পর্শ করা।
  4. পায়ের যি*না: ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে চলাফেরা করা।
  5. কানের যি*না: সম্পর্ক সংক্রান্ত খারাপ কথা শোনা।
  6. মনের যি*না: অবৈধ কল্পনা বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি করা।
  7. লজ্জাস্থানের যি*না: মানে এটি পূর্ণ বা অসম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়, যা শেষ ধাপ হিসেবে সর্বাধিক মারাত্মক।
    (বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসাঈ)

আমরা প্রায়শই শুধু শেষ ধাপটাকেই যিনা মনে করি। কিন্তু ইসলাম জানায়, এই ধাপের আগেও নানা ধরনের যিনা মানুষকে হারাম পথে ঠেলে দিতে পারে।

 

যি*না স্পষ্ট হারাম

আল্লাহ বলেন: “তোমরা যি*নার ধারের কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ।”
(সূরা বনী-ইসরাঈল 32)

 

যি*নার শাস্তি

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

“আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম। উপরের অংশ চাপা আর নিচের অংশ প্রশস্ত। সেখানে আগুন জ্বলে উঠছিল এবং নারী-পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল। আগুনের শিখা উপরে উঠলে তারা উপরে যায়, আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে চলে যায়। জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, এরা হলো অবৈধ যৌনচরকারী নারী ও পুরুষ।”
(বুখারী)

একদিন যি*না কারীর লজ্জাস্থানের দূর্গন্ধ পর্যন্ত জাহান্নামবাসীকে অস্থির করবে। সেই দিন তাদেরকে পিপাসা মেটানোর জন্য এমন পঁচা পানিই দিতে হবে।

 

শিক্ষণীয় বিষয়

এ কারণে প্রেমিক-প্রেমিকা বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য। কোনো অবৈধ আশা বা আকাঙ্ক্ষার দিকে মন দেওয়ার আগে আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং নিজের আচরণ সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আবশ্যক।

যি*না শুধু শরীরের নয়, মন ও আচরণেরও ব্যাপার। তাই আমাদের উচিত সতর্ক থাকা, চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, পা, মন—সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্পর্ককে হালাল পথেই সীমাবদ্ধ রাখা।

Copyright © 2022 Halal Dizworld || ALL RIGHT RESERVED