A Muslim couple demonstrating patience, respect, and strong character, symbolizing true religiosity in marital life.

দীনদারিতা মানে কী? বিয়েতে চরিত্র, ধৈর্য ও আচরণ বোঝার গুরুত্ব | Halal Dizworld

বিয়ের আগে “দীনদারিতা” খুঁজতে গিয়ে আমাদের বড় ভুলগুলো

বিয়ের আগে আমরা বলি — “দীনদার” ছেলে বা মেয়ে চাই।
কিন্তু আসলে কী বুঝি এই শব্দটা দিয়ে?

আমরা দেখি, দাঁড়ি আছে কি না, নামাজ পড়ে কিনা, হিজাব পরে কিনা, গান শোনে কিনা, ব্যাংকে চাকরি করে কিনা। এসবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দ্বীনদারিতা শুধু এ পর্যন্ত নয়।

দ্বীন মানে শুধু বাহ্যিক আমল নয়। দ্বীন মানে আচরণ, চরিত্র, ধৈর্য, রাগের সময় নিজেকে সামলে রাখা (বুখারি ৬১১৪, মুসলিম ২৬০৯)।

কারণ জীবনে মতভেদ হবেই, কিন্তু যার রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই, সে রাগে যা করে ফেলে, তাতেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

অনেক সময় দেখা যায়, নামাজ পড়ে, দাঁড়ি রাখে, তবুও রূঢ় মেজাজে সংসার ভাঙে। আবার কেউ পর্দা করে, কিন্তু মা-বাবার প্রতি অবাধ্য, তর্কে কঠিন। এগুলোও দ্বীনদারিতার ঘাটতি।

দ্বীনদার মানুষ সে-ই, যে শুধু আল্লাহর সামনে নয়, মানুষের সাথেও সুন্দর আচরণ করে (তিরমিজি ২৬১২)। যার চরিত্র ভালো, তার ঈমানও পরিপূর্ণ (মুসনাদে আহমদ, শু‘আবুল ঈমান ৪৩)।

এমনও হয়েছে, একজন মানুষ নামাজে যত্নবান হলেও তাঁর কঠোর স্বভাবের কারণে বিয়ে থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল (আদাবুল মুফরাদ)।

আর রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেই বলেছেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর শোক তিন দিনের বেশি নয়, কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর ইদ্দত চার মাস দশ দিন (সহীহ বুখারী ১২৮০, সহীহ মুসলিম ৯৩৮)।
এই নিয়মগুলো শুধু দায়িত্ব নয়, সম্পর্কের মর্যাদা বোঝায়।

✨ তাই বিয়ের সময় শুধু নামাজ, দাঁড়ি, হিজাব নয়; দেখতে হবে চরিত্র, রাগ নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য আর আচরণ। দ্বীনদারিতা মানে শুধু নামাজ পড়া নয়, মানুষ হওয়াও দ্বীনদারিতার অংশ। 🌿

Copyright © 2022 Halal Dizworld || ALL RIGHT RESERVED