কোন ধরনের ট্যালেন্টের জন্য কি কি রকমের কাজ করতে পারবেন? | Byteful Believer

বিশ্বে এতো এতো প্রফেশন আছে যে আপনি কোনটা ছেড়ে কোনটার উপর লাইফের ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন তা নির্নয় করা অনেক কঠিন। একটি পার্ফেক্ট ক্যারিয়ার আপনার জীবনে আনবে আনন্দময় কাজ এবং ডেডিকেশনপূর্ণ সফলতা। কিন্তু তার সিদ্ধান্ত নেয়া এতোই কঠিন, যা ভাবতে গেলেই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে মাথা ঘুরায়। কোনটা ছেড়ে কোনটার উপর ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিবেন তা অনেকেই অনেক রকমের পদ্ধতি বলে থাকেন। কিন্তু আমি এইখানে বাস্তবিক ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতিটি বলার চেষ্টা করবো।

তো বলা শুরু করি।

আপনাকে আগে চিন্তাভাবনা করে কনফার্ম হতে হবে যে আপনি আসলে কোন কাজে দক্ষ বা কোন কাজ করতে আপনার অনেক ভালো লাগে বা আপনার সবচেয়ে পছন্দনীয় শখ কি বা এমন কোন কাজে আপনি দক্ষ যেটাকে আপনার মতো করে অন্য কেউ তেমন পার্ফেকশনের সাথে করতে পারবেই না – সেটাকেই আপনি যদি ক্যারিয়ারে কনভার্ট করলে অর্থ উপার্জন করা আপনার জন্য তুলনামূলক সহজ ও আনন্দময় হয়ে যাবে।

এসম্পর্কিত বিস্তারিত কথা বলেছি “ফ্রিল্যান্সিং-এ আসার আগে যে যে বিষয় খেয়াল রাখতে হবে” আর্টিকেলে।।

আসলে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু ট্যালেন্ট থাকে যা জন্মগতভাবেই পাওয়া যায় যাকে “গড গিফটেড ট্যালেন্ট” বলা হয়ে থাকে। তবে “গড গিফটেড ট্যালেন্ট” বা স্রষ্টা প্রদত্ত ট্যালেন্ট এর কথা বলতে গেলে এইভাবে কথা বলাটাও ভুল হবে। কারন আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই স্রষ্টা সকল ধরনের ট্যালেন্ট দিয়েছেন, তবে কারোর মধ্যে কোনো ১টা স্পেসিফিক ট্যালেন্ট এর পার্সেন্টেজের পরিমাণ অন্য সব ট্যালেন্ট থেকে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এবং সেটাতে আমরা নিজের জায়গা থেকে ১০০% দক্ষ হতে পারি।

আজ আপনাকে কিছু মাপদন্ড তুলে ধরবো যা থেকে খুজে বের করতে পারবেন যে কোন কাজে আপনি জন্মগত ট্যালেন্টেড। যেটাতে আপনি ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন। যা আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।

 

ক্যারিয়ার সাধারণত ২ভাবে গড়া যায়। ১, ব্যবসায়ের মাধ্যমে; ২. চাকুরির মাধ্যমে (সরকারী কিংবা বেসরকারী)। বিভিন্ন ধরনের পণদ্রব্য ও সেবাকর্ম অনলাইন কিংবা অফলাইনে বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করা যায়। আবার ব্যবসাকে আরো বড় করতে কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি চাকুরি পেতে পারে। যার কারণে ব্যক্তি নিজের স্কীলকে ব্যবসায়ে বা কোম্পানিতে কাজে লাগিয়ে সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

অনেক ধরনের ব্যবসায় হয়ে থাকে, যা অনলাইন ও অফলাইন এই ২ভাবে করা যায়। এইখানে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি ব্যবসায়, যা শুধুমাত্র অনলাইনেই করা যায়। সেটা নিজ দেশের ক্লাইন্টের সাথে হতে পারে অথবা বিদেশী বিভিন্ন ধরনের ক্লাইন্টের সাথে কাজ করা যেতে পারে।

এখন অফলাইন ও অনলাইন ভিত্তিক কিছু কাজের কথা বলি, তারপর ফ্রিল্যান্সের আলাদা করে কিছু কাজের কথা সংক্ষেপে আলোচনা করবো। যেগুলর সাথে আপনার দক্ষতার মিল থাকলে সেদিকে কাজ করতে পারেন।

 

আগে অফলাইন ভিত্তিক দেশীয় পেশাসমূহ সম্পর্কে কিছু বলি, যদিও এগুলোকে বর্তমানে ভার্চুয়াল জগতে কাজ করার মাধ্যমে কাজ করা আরো সহজ হচ্ছে এবং সময় ও শ্রম আরো বেচে যাচ্ছে।

  • আপনি যদি কাউকে সুন্দর করে কোনো একাডেমিক বিষয় বুঝাতে পারেন তাহলে আপনি শিক্ষক হতে পারেন। যদিও বর্তমানে শিক্ষতার চাহিদার তুলনায় বেতন বা সম্মানি কম হয়ে থাকে। তবে এটাকে সব পেশা থেকেও পবিত্র পেশা বলা হয়ে থাকে।
  • যদি আপনার রোগীদের রোগ নির্ণয় ও ঔষধসম্পর্কিত পরামর্শ দিতে পছন্দ করেন এবং আপনার এ বিষয়ক পড়াশোনা করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি ডাক্তার হতে পারেন। ডাক্তার হয়ে আপনি কোনো হাসপাতালে জব অথবা নিজের চ্যাম্বার তৈরি করে আপনার ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। যদি আপনার বড় বাজেট থাকে তাহলে আপ্নি আরো কিছু কর্মীদের সাথে নিয়ে একটা হাসপাতাল বা ক্লিনিক নির্মান করে এলাকার রোগীদের সেবাযত্নে নিয়োজিত হতে পারেন।
  • যদি আপনি ন্যায়ের পথে আইনগত ভাবে কাজ করতে চান এবং অন্যায়কারীদের শনাক্ত করে অন্যায়কারীদের ভিতরে থাকা অন্যায়কে ধুয়ে পরিষ্কার করাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে দেশ-সমাজের জনগনকে উপকৃত করতে চান তাহলে আপনি পুলিশ পেশায় যোগদান করতে পারেন।
  • আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনা-নৌ-বিমান বাহিনী হিসেবে দেশের জন্য সরাসরি কাজ করতে ভালো লাগলে তাতেই যোগদান করতে পারেন।
  • যদি আপনি কাপড়-চোপড় ভালোভাবে ধুতে পারেন তাহলে লন্ড্রি বিজনেস করতে পারেন।
  • দেশের বিলুপ্তপ্রায় একটি পেশা হচ্ছে মুচি। যদি আপনি জুতা রিপেয়ার, ছাতা রিপেয়ার, খাতাপত্র সেলাইসহ ইত্যাদি রিপেয়ার ও সেলাই এর কাজ করতে ভালো লাগে তাহলে একটা মুচির ব্যবসায় করতে পারেন। তবে তা হতে পারে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসায়। ভ্রাম্যমান নয়।
  • সত্য খুজে বের করা ও নিরপরাধীকে আদালতে প্রমাণ করতে পারার মতো কোনো কাজ করতে পারলে আপনি  আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ হতে পারেন।
  • মাছ লালনপালন, মাছ চাষ, মাছ শিকার ইত্যাদি কাজ করতে ভালো লাগলে আপনি জেলে কিংবা মৎস্য খামারি হতে পারেন।
  • যদি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চালাতে পারেন তাহলে আপনি বিমান চালক/পাইলট, জাহাজ চালক/নাবিক সহ ইত্যাদি যানবাহনের চালক হিসেবে যোগদান হতে পারেন। বিশ্বাস হয়তো নাও হতে পারে যে, উন্নত বিশ্বে চালকদের বেতন অনেক বেশি হয়ে থাকে।
  • বিভিন্ন ধরনের গ্রোসারি শপ জাতীয় পণদ্রব্য অনলাইন কিংবা অফলাইনে বিক্রয়ের মাধ্যমে অনলাইন দোকানদার হিসেবে কাজ করতে পারেন।

 

এখন আসি ফ্রিল্যাসিং-এর কাজ গুলোতে…

  • যদি আপনি ছবি আকা-আকি করতে ভালো পারেন তাহলে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং-এ আসতে পারেন।
  • আপনি যদি কোনো পণ্যের সম্পর্কে আকর্ষণীয় উপায়ে ক্রেতাকে বুঝাতে পারেন তাহলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এ আস্তে পারেন।
  • যদি আপনি কোনো পোস্টের ক্যাপ্সহন লিখতে পারেন তাহলে আপনি কপিরাইটিং এ আস্তে পারেন।
  • যদি আপনি মেধা তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে বা ছোট-খাটো প্রচুর বিষয়াদি ভালো মনে রাখতে পারেন তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইনে আস্তে পারেন।
  • আপনার যদি বাসা বাড়ীর ডিজাইন করতে ভালো পারেন তাহলে আপনি ইন্টেরিওর ডিজাইনে আস্তে পারেন।
  • আপনার যদি শুনার ক্ষমতা প্রখর থাকে আর যদি আপনি বিদেশি কোনো ভাষার শুনার ক্ষমতা ভালো থাকে তাহলে আপনি অডিও ফাইল থেকে টেক্সট ফরমেটে কনভার্ট করতে পারবেন।
  • অথবা যদি আপনার গলার আওয়াজ ও পড়ার ভঙ্গি সুন্দর হয়ে থাকলে আপনি ভয়েস ওভার এর কাজে আসতে পারেন।

 

লেখক কামিনী রায়ের সেই বিখ্যাত কবিতা তো জানা আছেই,

“করিতে পারি না কাজ, সদা ভয় সদা লাজ।
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে , পাছে লোকে কিছু বলে।”

 

কোনো কাজই ছোট নয় আর কোনো কাজই অতো সহজ নয়। প্রত্যেকের চিন্তাধারা এক এক রকমের। এক জনের কাছে যেটা খুবই তুচ্ছ হলেও অন্যজনের কাছে সেটা সম্মানজনক। এটা বলার মূল কারন হচ্ছে আপনি যেন সিদ্ধান্ত নিতে কোনো কনফিউশনে না পড়ে যান যে “অমুখ কাজ তো কাজে ছোট সম্মানজনকও না। যদি করি তাহলে সমাজ কি বলবে? পরিবার কিংবা আত্মীয়স্বজন কি বলবে?” এটা-সেটা হেন-তেন। তাই সমাজ-পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এর কথা মাথায় না নিয়ে যে কাজে আপনি দক্ষ সেটা যতোই ছোটই হোক না কেন লেগে পড়ুন।

ইন শা আল্লাহ সফলতা আসবেই।

Copyright © 2022 Halal Dizworld || ALL RIGHT RESERVED