সুদের ভয়াবহতা ও পরিনাম | by Mufti Rakibul Islam

মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করার মানব জাতিকে পৃথিবীতে বসবাসের জন্য প্রেরন করেন। সাথে সাথে বসবাসের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুর ব্যবস্থা করলেন। সাথে সাথে এমনকিছু নীতিমালা প্রেরন করলেন যাতে মানব জাতির শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এবং পরস্পর হৃদ্যতা ভ্রাতৃত্ব মানবতা সহনশীলতা বজায় থাকে।
সেই বিবেচনায় সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় নির্ধারন করলেন, তাহল “অর্থনীতি“, এটি সমস্ত মানবজাতি উন্নতির চাবিকাঠি। অর্থনীতি ভঙ্গুর হলে সামগ্রিক ভাবে বিপত্তি দেখা দিবে। সেজন্য উন্নত অর্থনৈতিক নীতিমালা কোরআন হাদীসের মাধ্যমে প্রণীত আছে। আর তা হলো “সুদবিহীন অর্থনীত“।

সুদ হলো মানবজাতি ধ্বংসের একটি চূড়ান্ত রুপরেখা। আল্লাহ সুদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক করেছেন। এবং পবিত্র কোরআনের এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে সুদকে চিরদিনের জন্য হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোরআনে আল্লাহ বলেন-

“তারা সেখানেই সর্বদা থাকবে। আল্লাহ সুদকে নির্মূল করেন এবং দান-সদকাকে বর্ধিত করেন। আর আল্লাহ এমন প্রতিটি লোককে অপছন্দ করেন, যে অকৃতজ্ঞ ও পাপিষ্ঠ। হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হয়ে থাক, তবে সুদের যে অংশই কারও কাছে অবশিষ্ট রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও। তবুও যদি তোমরা তা না কর, তবে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর তোমরা যদি সুদ থেকে তওবা কর, তবে তোমাদের মূল পুঁজি তোমাদের প্রাপ্য। তোমরাও কারও প্রতি জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না।” (সুরা বাকারা : ২৭৫-২৭৯)

সুদের ব্যাপারে নবীজি (সাঃ)-ও অনেক কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা:) সুদ ভক্ষণকারী, সুদ দাতা, সুদ লেনদেনের সাক্ষী ও সুদ কারবারের লেখকের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

এছাড়াও সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আরো বর্ননা পাওয়া যায়-

১- আল্লাহ এবং রাসুলের সাথে যুদ্ধ করার নামান্তর। ~ সূরা আল বাক্বারা – ২৭৫-২৭৯

২- যারা সুদ খাবে তারা পাগল অবস্থায় হাশরের মাঠে উঠবে। ~ সূরা আল বাক্বারা – ২৭৫

৩-যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের মাঠে শ্বাসরূদ্ধ অবস্থায় উঠবে। ~ উমদাতু তাফসীর ১-৩৩০

৪- সুদখোররা এলাকার গজবের কারন হবে। তাদের কারনে এলাকায় আজাব গজব আসবে। ~ তারগীব অর তারহিব – ৩-৫৯

৫-সুদখোরদের কারনে এলাকায় দুর্ভিক্ষ আসবে। ~ মুসনাদে আহমদ – ১৭৮২২

৬-যারা সুদ খায় তারা পেটে সাপ ঢুকায়। অর্থাৎ সুদ সাপের ন্যায় তাদের পেটে অবস্থান করবে। ~ সহীহ ইবনে মাজাহ – ২২৭৩

৭-আপন মায়ের সাথে জিনা করার সমান। ~ সহীহ ইবনে মাজাহ – ২২৭৪-৭৫

৮-সুুদী লেনদেনের মাধ্যমে দুনিয়া নষ্ট করা আখেরাত নষ্ট করা হয়। সহীহ বোখারী – ২২৬৬

৯-কবর দেয়ার পর এমন একটি রক্ত  নদীতে সাতার কাটতে থাকবে কিয়ামত চলে আসবে তবুও তার সাতার শেষ হবে না। ~ সহীহ বোখারী – ২০৮৫

১০-সুদী কারবারের সম্পৃক্ত সবার উপর নবী সাঃ অভিশাপ দেন। ~ সহীহ নাসায়ী – ৫১০৩

১১- জেনে বুঝে ৩৬বার জিনা করার সমান। মুসনাদে আহমদ – ২২০০৭

১২- সুদখোর যখন মারা যায় তখন আল্লাহর উপর হক তাকে জান্নাত না দেয়া। অর্থাৎ জাহান্নাম অবধারিত। মুসতাদরাকে হাকীম – ২২৬০

১৩-সুদ না খেলেও হাওয়া লাগবে। ~ সুনানে আবু দাউদ – ৩৩৩১

কোরআন হাদিসের বাণীর পাশাপাশি যুক্তি ও বিবেকও এ কথার সাক্ষী দেবে যে, ব্যক্তি ও সমাজ, চরিত্র ও নীতি, অর্থনীতি ও ব্যবসানীতি সর্ব দৃষ্টিকোণেই সুদ একটি ক্ষতিকর ও ধ্বংসকারী বিষয়। সুদের কারণেই মানুষের মধ্যে স্বার্থান্ধতা, লোভ, কৃপণতা ও দয়াপরবশ-হীনতার মতো অসৎ ও নোংরা আচার বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়।

এজন্য আমাদের এই নিকৃষ্ট অর্থব্যবস্থা থেকে ফিরে ইসলামী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন।

মুফতি রাকিবুল ইসলাম,
মুহাদ্দীস, জামিয়া রশিদিয়া এনায়েতুল উলুম,
মোল্লাপাড়া, দক্ষিনখান, ঢাকা

Copyright © 2022 Halal Dizworld || ALL RIGHT RESERVED