হেদায়েত: আত্মিক জীবন ও ইসলামী ধার্মিকতার অক্সিজেন
-
Rizwan Ahmed
হেদায়েত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল নিয়ামত, যা আমাদের জীবনে অক্সিজেনের মতো অপরিহার্য।
অক্সিজেন যেমন শরীরকে বাঁচিয়ে রাখে, তেমনি হেদায়েত হৃদয়কে জীবন্ত রাখে। যখন এই আলো নিভে যায়, মানুষ নিজের পথ ভুলে ফেলে, সৎ–অসৎ বোঝার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়। আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ যার জন্য হেদায়েত চান, তার হৃদয় ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রশস্ত করে দেন।” (সূরা আন’আম 6:125)
হেদায়েত থেকে দূরে সরে গেলে মানুষ ধীরে ধীরে তার আধ্যাত্মিক অনুভূতি, নরমভাব, লজ্জাশীলতা সবকিছু হারাতে থাকে। নবী ﷺ সতর্ক করে বলেছেনঃ “দেহের ভেতর এমন একটি টুকরা আছে, তা ঠিক থাকলে পুরো শরীর ঠিক থাকে; আর তা নষ্ট হলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। তা হলো—হৃদয়।” (বুখারি, মুসলিম)
কিন্তু মানুষ যত দূরেই যাক, আল্লাহ যখন দয়ার দরজা খুলে দেন, ফিরে আসা কখনোই কঠিন থাকে না। তাওবার পথ সবসময় খোলা। আল্লাহ বলেনঃ “হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সূরা যুমার 39:53)
হেদায়েত ফিরে এলে মানুষের ভেতরে যে প্রশান্তি জন্মায়, তা কোনো সম্পদে পাওয়া যায় না। তার আচরণে নরমভাব আসে, কথায় সততা আসে, আর অন্তরে এমন এক শান্তি তৈরি হয় যা শুধু আল্লাহর পথেই পাওয়া যায়।
নবী ﷺ বলেছেনঃ “যার প্রতি আল্লাহ কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের বুঝ দান করেন।” (বুখারি, মুসলিম)
এই বোঝাপড়াই মানুষকে বদলে দেয় ভেতর থেকে। তখন ইবাদত চাপ মনে হয় না, বরং ভালোবাসা মনে হয়। তখন মানুষ বুঝতে পারে, প্রকৃত সম্মান তাকওয়ায়, আর প্রকৃত সফলতা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।
