শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট ইসলাম কি বলে? Invest on Share Market | Rizwan Ahmed – Byteful Believer
- Rizwan Ahmed
রাফি চাকরিবাকরি করে সামান্য কিছু জমিয়েছে এবং ভাবছে এখন সেটা কোথাও ইনভেস্ট করবে। কিন্তু কিভাবে শুরু করবে নিশ্চিত নন। তার বাবা তাকে শেয়ার মার্কেটের লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে দেখতে বললেন- কিভাবে একাউন্ট খুলতে হয়, কাজ শুরু করতে হয় তা প্রসপেক্টাসটি পড়ে বুঝে নিতে। রাফি পুরো প্রসপেক্টাসটি পড়ে বেশ কিছু আইডিয়া পেয়েছে।
হঠাত শেয়ার কেনার আগে রাফি ভাবলো আগে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমের সাথে কথা বলতে। যেমন কথা তেমনি কাজ। রাফি অভিজ্ঞ আলেমের কাছে গেলো এবং এ বিষয়ে সে সবকিছু খুলে বলল। এবং আলেম সাহেব তাকে যে শার’য়ী পরামর্শ দিয়েছেন, আসুন তা জেনে নেই।
আধুনিক পুঁজিবাদ ব্যবস্থায় শেয়ার মার্কেটের লেনদেনকে সমকালীন বিজ্ঞ ফকিহগণ হারাম বলে অভিহিত করেছেন। কারন এতে সুদি কারবার, হারাম পণ্যের লেনদেন, যৌথ বিনিয়োগের শর্তলঙ্ঘন, ধোঁকা, জুয়া ইত্যাদি পাওয়া যায়; যেটাতে এর মধ্যে যেকোনো একটির অস্তিত্বই যেকোনো লেনদেন হারাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আলিমগণ কঠিন কিছু শর্তের ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে এটার অনুমোদন দিলেও বাস্তবতা হলো, এসব শর্তপালন বর্তমান সময়ের প্রক্ষাপটে অসম্ভব আর সেটার পশ্চিমা পুঁজিবাদ ব্যবস্থার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ মতের প্রবক্তারাও এ তিক্ত বাস্তবতা স্বীকার করেন। তা ছাড়াও এসব শর্তের বিষয়টি ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ। এজন্য তারাও এসব কারবার থেকে মানুষকে যথাসম্ভব দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মোটকথা, শেয়ার মার্কেটের ব্যবসা শারয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণরুপে হারাম বা কম্পক্ষে মারাত্মক সংশয়পূর্ণ একটি লেনদেন। তাই এ ধরনের লেনদেন থেকে অবশ্যই আমাদের বিরত থাকতে হবে।
যদি আপনি সমাজে আপনার পরিচিত ও বিশ্বস্ত মানুষজনকে দেখেন এরকমের ব্যবসা অনেকেই করছে, তাতেও সেটা শেয়ার মার্কেটের বৈধতার ক্ষেত্রে অন্যদের জন্য দলিল বা উৎসাহের কারণ হতে পারে না। অনুসরণযোগ্য হবে একমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ।
আশা করি এই আলোচনাটুকু বুঝতে পেরেছেন।
এই ভিডিওতে কন্ঠ আমার হলেও কথাগুলো “বিলিয়ন ডলার মুসলিম” বইটি থেকে অনুপ্রেরনিত হয়ে বলা। ইন শা আল্লাহ, সকলের উপকারে আসবে। পূর্বে অনেক আলেম-এ-দ্বীনরা এ বিষয়ে অলরেডি মতামত জানিয়েছেন। তারপরেও তাদের কথাগুলো যেন আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। সকলে দোয়া করবেন।
