“পূরুষ ও নারীদের পর্দা” সম্পর্কিত আল্টিমেট নীতিমালা। – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ

মানব দেহের কিছু অংশ ‘গুপ্তাঙ্গ’ বা ‘আউরাত’ (Private parts) বলে নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। এগুলো অন্য মানুষদের দৃষ্টি থেকে আবৃত করে রাখা ফরয। পুরুষদের জন্য সদাসর্বদা নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত শরীর অন্য মানুষের দৃষ্টি থেকে আবৃত করে রাখা ফরয। এ অংশটুকু স্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে দেখানো হারাম। মহিলাদের পোষাকের মূলত ৪টি স্তর রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন পোষাকের বাধ্যবাধকতা নেই। অন্য মুসলিম মহিলাদের দৃষ্টি থেকে নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত স্থান আবৃত করে রাখা মুসলিম মহিলার জন্য ফরয। পিতা, আপন চাচা, মামা, ভাতিজা, ভাগিনেয়, শ্বশুর প্রমুখ মাহরাম (বিবাহ সম্ভব নয়) আত্মীয়দের সামনে মোটামুটি কাঁধ থেকে হাঁটু পর্যন্ত শরীর আবৃত করতে হবে। বাকী সকল পুরুষের দৃষ্টি থেকে মুসলিম মহিলা মাথার চুল, মাথা, কাঁধ, কান ও গলাসহ পুরো শরীর আবৃত করে রাখবেন। এগুলো তাদের সামনে অনাবৃত করা হারাম ও কঠিন গোনাহের কারণ। আমরা এতটুকুই বুঝতে পারি যে, যেখানে যতটুকু আবৃত করা ফরয তা আবৃত করলে সাওয়াব হবে এবং অনাবৃত রাখলে কঠিন গোনাহ হবে।
উপরন্তু কোনো মহিলা যদি কব্জি পর্যন্ত হাতের তালু ও মখমণ্ডল ছাড়া অন্য কিছু- যেমন চুল, কান, গলা ইত্যাদি অনাবৃত রেখে সালাত আদায় করেন, তবে অন্য কোনো মানুষ না দেখলেও তার সালাত আদায় হবে না।
অভিভাবকের জন্য নিজের পর্দা পালন যেমন ফরয, তেমনি নিজের কন্যা, স্ত্রী, ভগ্নি বা নিজের দায়িত্বাধীন সকল মহিলার পর্দা করানো ফরয। আমাদের দেশের অনেক ধার্মিক মুসলিম পুরুষদের সুন্নাতী পোশাকের বিষয়ে সচেতন হলেও মেয়েদের ‘সুন্নাতী’ তো দূরের কথা, ‘ফরয’ পোশাকের বিষয়েও সচেতন নন। পুরুষদের সাধারণ পোশাক, সুন্নাতী পোশাক এবং মহিলাদের পর্দা ও সুন্নাতী পোশাকের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমার লেখা ‘কুরআন সুন্নাহের আলোকে পোশাক, পর্দা ও দেহ-সজ্জা’ পুস্তকটি পাঠ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ

Copyright © 2022 Halal Dizworld || ALL RIGHT RESERVED