মু’ওয়াজ্জল এখনই, মু’অজ্জল পরে: বিয়েতে স্ত্রীর অধিকার বা দেনমোহরের বাস্তব জ্ঞান
-
Rizwan Ahmed
মু’অজ্জল আর মু’ওয়াজ্জল দুটো শব্দই দেনমোহর বা আর্থিক প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে খুব পরিচিত। শব্দদুটি শুনতে কাছাকাছি লাগলেও বাস্তবে এদের অর্থ, প্রয়োগ আর ফলাফলে স্পষ্ট পার্থক্য আছে। বিষয়টা যতটা সরল, ভুল বোঝাবুঝিগুলো ঠিক ততটাই সাধারণ। তাই পুরো বিষয়টা একসাথে সাজিয়ে দেখাই।
মু’ওয়াজ্জল হলো এখনই যা আদায়যোগ্য। যার মানে সঙ্গে সঙ্গে প্রদেয়। বিয়ে হোক বা অন্য কোনো লেনদেন, যেটার টাকা বা মালিকানা তৎক্ষণাত হস্তান্তর করার কথা, সেটাই মু’ওয়াজ্জল। এখানে কোনোরকম সময়সীমা বা বিলম্ব নেই। দায়িত্ব এখনই এই মুহূর্তে। দেনমোহরের ক্ষেত্রে, বিয়ের দিনেই যে অংশটি স্ত্রীকে দেওয়া হয়, সেটাই মু’ওয়াজ্জল। এই অংশটি সাধারণত স্বচ্ছতার জন্যই দেওয়া হয়, যাতে বিয়ের মুহূর্তেই স্বামীর দায়িত্বের প্রাথমিক অংশ সম্পন্ন হয়।
মু’অজ্জল হলো পরে দেওয়া হবে যেটা। যার মানে বিলম্বিত। অর্থাৎ, যেটা এখন না দিয়ে ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেওয়া হবে। এটা হতে পারে কয়েক দিন পর, কয়েক মাস পর, অথবা বিচ্ছেদের সময় চুক্তির ওপর নির্ভর করে। দেনমোহরের বেশিরভাগ অংশই প্রায়শই মু’অজ্জল হিসেবে নির্ধারিত হয়, কারণ অনেকে একসাথে পুরোটা পরিশোধ করতে পারেন না, আবার স্ত্রীও সেটা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হিসেবে রাখতে চান। মু’অজ্জল হল স্বামীর একটি নিশ্চিত দায় আজ হোক বা কাল, এটা তাকে পরিশোধ করতেই হবে।
দুইটার মূল পার্থক্য এক লাইনে বললে: সময়ের ব্যবধানই আসল ফারাক। মু’ওয়াজ্জল হলো যা এখনই দিতে হয়। আর মু’অজ্জল হলো যা পরে দিতে হয়।
কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় আরও কিছু সূক্ষ্ম দিক আছে:
1. দায়বদ্ধতার তাত্ক্ষণিকতা: মু’ওয়াজ্জল মানে দায়িত্ব এখনই সম্পন্ন করতে হবে। মু’অজ্জল মনে করিয়ে দেয় যে সামনে একটি দায় অপেক্ষা করছে।
2. স্ত্রীর নিরাপত্তা ও অধিকার: মু’ওয়াজ্জল স্ত্রীর হাতে তাত্ক্ষণিক অধিকার দেয়। মু’অজ্জল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা তৈরি করে, বিশেষত ভবিষ্যতে কোনো সংকট দেখা দিলে।
3. স্বচ্ছতা ও চুক্তির জোর: মু’ওয়াজ্জল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, বিয়ের দিন কী দেওয়া হলো, সেটা স্পষ্ট। মু’অজ্জল ঠিকমতো লিখে রাখা না হলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকে।
শেষ কথা: মু’ওয়াজ্জল আর মু’অজ্জল দুটোই দেনমোহরের অংশ, কিন্তু দুটির ভূমিকা ভিন্ন। একদিকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। অনেক সময় মানুষ শুধু শব্দ শুনে বোঝে না কোনটা কখন প্রয়োগ হবে। অথচ বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকা জরুরি।
ঠিকভাবে বুঝে, লিখে, সম্মত হয়ে নির্ধারণ করাটাই আসল বিষয়।
চুক্তি যত পরিষ্কার, জীবন তত স্বস্তির।
