ফ্রীমিক্সিং রোধ করতে নারীর পর্দা যেমন ফরজ পুরুষের তাকওয়াও সমানভাবে ফরজ । Halal Dizworld
-
Rizwan Ahmed
ফ্রীমিক্সিং শুধু নারীর জন্য নয়, পুরুষের জন্যও হারাম। সমাজে নারীর পর্দা যেমন জরুরি, পুরুষের নজরও সমানভাবে হেফাজতে রাখতে হবে। একজন লজ্জাশীলা মা বা গাইরতওয়ালা বাবা গড়ে ওঠে সঠিক দায়িত্ববোধ থেকে, না যে কোনো বাহ্যিক স্বাধীনতা বা শিক্ষার নামে।
ভার্সিটিপড়ুয়া মেয়েরা ফ্রীমিক্সিং-এ অভ্যস্ত থাকতে পারে, কিন্তু সবাই নয়। মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে মানেই সবই সৎ বা সুফী নয়। এই মানে যে ‘ভার্সিটিপড়ুয়া মেয়ে বিয়ে করব না’ ন্যারেটিভ শতভাগ কার্যকর, তা নয়।
ফ্রীমিক্সিং থেকে বাঁচা শুধু মেয়েদের দায়িত্ব নয়, পুরুষদেরও সমানভাবে জরুরি। নারীর পর্দা রক্ষা যেমন ফরজ, পুরুষের তাকওয়া ও নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে ফরজ। সমাজের জন্য দুশ্চরিত্রা নারী যতটা ভয়ংকর, লম্পট পুরুষও ততটাই ক্ষতিকর।
শরঈ ওজনহীন মেয়েদের ভার্সিটিতে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, ঠিক তেমনি দ্বীনের দোহাই দিয়ে ছেলেদের দুনিয়াবি শিক্ষা থেকে দূরে রাখা অনুচিত। পুরুষের বৈশ্বিক জ্ঞানার্জন যেমন জরুরি, নারীর পারিবারিক শিক্ষা প্রদান তারচেয়ে বেশি জরুরি।
দ্বীনি ইলম অর্জন পুরুষের জন্য যেমন ফরজ, নারীর জন্যও সমানভাবে ফরজ। পুরুষকে তাকওয়া দিয়ে বিচার করা উচিৎ, নারীকেও তাকওয়া দিয়েই বিচার করা উচিৎ।
সমাজের ভারসাম্য একপাক্ষিক চিন্তায় আসে না। একজন পুরুষ বা একজন নারী একা কিছু করলে ফল হয় না। নারী-পুরুষ যারা নিজের দায়িত্ব পালনে অমনোযোগী, সমাজে ফাঁক দেখা দেয়।
ফেমিনিস্টদের প্রতিহত করতে হবে ঠিক যেমন এক্সট্রিম মিসোজিনিস্টদের প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। পুরুষ সভ্যতার নির্মাতা, নারী সেই সভ্যতার কারিগর।
শরঈ বিধান মানা নারী ও পুরুষ দুজনের জন্যই সমানভাবে জরুরি। নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, নারীর জন্য শর্ত বসানো যেমন ঠিক, পুরুষকেও দায়িত্ব মনে করিয়ে দেওয়া সমানভাবে জরুরি। সমাজে বিশৃঙ্খলা না হলে, নারী-পুরুষের কাঁদাচিড়া কিছুই সমাধান আনতে পারে না।
