অল্প বয়সে বিয়ে না করানোর পরিণতি: সমাজ, প্যারেন্টিং ও নৈতিক অবক্ষয়ের বাস্তব চিত্র। Halal Dizworld
-
Rizwan Ahmed
অল্প বয়সে বিয়ে না করার যে তথাকথিত “কারণগুলো” আমরা শুনি, সেগুলো আসলে মেয়ে বাঁচানোর কথা নয়; বরং মেয়েকে অরক্ষিত করে দেওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায়। সমাজের এক অংশ বিশ্বাস করে, অল্প বয়সে বিয়ে মানে নাকি স্বাধীনতা হারানো, নাকি জীবনের আনন্দ নষ্ট হয়ে যাওয়া। কিন্তু একই সমাজ মেয়েদের এমন এক পরিবেশে ফেলে দেয়, যেখানে অবাধ সম্পর্ক, অনিরাপদ যোগাযোগ আর গায়রে মাহরাম ছেলেদের সঙ্গে মেশাকে চুপচাপ স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলা হয়।
মজার বিষয় হলো, বিয়ে নিয়ে ভয় দেখানো হয়, কিন্তু অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে কোনো ভয় নেই। বরং মোবাইল তুলে দেওয়া হয় হাতে, ডেট করার সুযোগ তৈরি করা হয়, বাইকে চড়ে কোথায় যায়? – সে প্রশ্ন তোলা যেন অপরাধ। প্রেম করতে দিলে বাহবা, কিন্তু দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত চাইলে হাজারটা আপত্তি!
মেয়েরা বিয়ের আগেই “বউ” ডাক শুনে ফেলে, গোপনে ছবি পাঠিয়ে দেয় অচেনা কারো কাছে, সম্পর্কের নামে নিজের সম্মান বারবার বাজি রাখে এসব নিয়ে কেউ কথা বলে না। বাবা শুধু লুঙ্গি তুলে নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু মেয়ের নিরাপত্তা, চরিত্র, সীমা এসব নিয়ে কোনো নির্দেশনা বা শাসন নেই। যেন মেয়ে এতটাই আদরের যে তাকে ভুলের পথ থেকে ফেরানোও নাকি নিষেধ।
এই ভণ্ডামির ফলেই তরুণ-তরুণীরা নিরাপদের বদলে ঝুঁকির পথে হাঁটে। অথচ বাস্তবতা খুব সোজা: অল্প বয়সে বিয়ে মানে চরিত্র নষ্ট হওয়া নয়; বরং দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়া। নিরাপদ, হালাল সম্পর্কের পথ খুলে দেওয়া। সম্মান বাঁচানো। মানসিক নিরাপত্তা দেওয়া।
কিন্তু সমাজ তার উল্টোটা শিখায়—বিয়ে না, প্রেম করো; দায়িত্ব না, স্বাধীনতার নামে ঝুঁকি নাও; সম্মান নয়, স্বীকৃতি খুঁজো।
ফলে প্রশ্নটা দাঁড়ায়:
আমরা কি সত্যি মেয়েদের ভালো চাই, নাকি শুধু সমাজের ভাঙা নিয়মগুলো আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চাই?
সিদ্ধান্ত কিন্তু একটাই—মেয়েকে নিরাপদ রাখতে হলে তাকে পথ দেখাতে হবে। আর পথ দেখানো মানে শুধু ডांটা-বকা নয়; সঠিক সিদ্ধান্তের দরজা খুলে দেওয়া। বিয়ের মতো দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তকে অপরাধ বানানো নয়।
